ফটো এডিট করতে চান ?অ্যান্ড্রয়েডের জন্য ফটোশপের সেরা পাঁচটি বিকল্প অ্যাপের নাম জেনে নিন

0
662

স্মার্টফোনের যুগে প্রতিটি মানুষ তাদের ছবি আপলোড করছেন নিজেদের পছন্দসই সোশ্যাল সাইটে।আপনার ফোনের ক্যামেরা ভালো না হলে সেই ছবির গুণমান বাড়ানোর জন্য ছবি এডিট করার দরকার পড়ে।ছবি এডিট করার জন্য এবড ফটোশপ হল কম্পিউটারের সবচেয়ে জনপ্রিয় সফ্টওয়্যার।কিন্তু এবড ফটোশপের সমস্ত টুল অ্যান্ড্রয়েডে পেতে হলে আমাদেরকে অনেকগুলি অ্যাপ আলাদাভাবে ডাউনলোড করতে হবে।তবে গুগল প্লে স্টোরে এমন কিছু অ্যাপ আছে যেগুলো এবড ফটোশপের ভালো বিকল্প হতে পারে।আসুন জেনে নেই অ্যান্ড্রয়েডের জন্য এবড ফটোশপের বিকল্প হিসাবে সেরা পাঁচটি অ্যাপের নাম।

১) SnapSeed :

SnapSeed সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস এর জন্য।এর সমস্ত ফিচার গুলি খুবই উপযোগী এবং টুল গুলি সহজে ব্যবহার করা যায়।এমনকী ফটোশপ এর মত এতে সব রকম ফিচারই আছে। Snapseed এ ২৯ টি টুল এবং ফিল্টার রয়েছে যেমন হিলিঙ্গ, ব্রাশ, স্ট্রাকচার, এক্ষপসার, কালার, মেকিং, এবন রি-সেপিঙ্গ টুলস।সবচেয়ে বড় কথা হল SnapSeed একেবারেই বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে, এবং এতে কোনও রকমের অ্যাড নেই।
স্বপক্ষে:
ক) দারুন ফটো এডিটিং টুল।
খ) একটির মধ্যে সমস্ত টুল বর্তমান।
গ) সব রকমের স্টাইলের কনট্রোল টুল পাওয়া যায়।
বিপক্ষে:-
ক) নবাগতদের একটু সময় ব্যয় করতে হবে এর ব্যবহার ভাল ভাবে করতে গেলে।

৩) Pixlr :

এটি নিসন্দেহে একটি ভাল অ্যাপ ফটো এডিটিংএর জন্য। এর বিশেষত্ত হল এতে বিভিন্ন লেয়ার নিয়ে ছবি এডিট করা হয়,যাতে অনেক গুলি ছবি একসাথে ব্যবহার করা যায়।এবড ফটোশপ মিক্সেও এটা করা যায় কিন্তু এতে লেয়ার এডিটিং ছাড়াও অন্যান এডিট অপশন ও পাওয়া যাবে যেমন কালার ফিক্সিং, স্টাইলিং ইমেজেস, ইঙ্ক স্কেচ ,পোস্টার এফেক্ট ইত্যাদি।
স্বপক্ষে:-
ক) এতে বিনামূল্যে 2 মিলিয়নের বেশি এফেক্ট, ওভারলেস, ফিল্টার আছে।
খ) লেয়ার এডিটিং।
গ) পেন্সিল ড্রইং , ইঙ্ক স্কেচ, পোস্টার এফেক্ট।
ঘ) নতুন নতুন এফেক্ট রোজ যোগ করা হয়।
বিপক্ষে:-
ক) এটি ফ্রী কিন্তু এতে অনেক বিজ্ঞাপন আছে।
গ) প্রচুর এফেক্ট থাকার কারণে ইউজারদের অনেক কস্ট করতে হয় সঠিক ছবি তৈরি করতে।

৩) Toolwiz photos- pro editor :

এটি সত্যি একটি চমৎকার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ,যাতে রয়েছে প্রায় ২০০টিরও বেশি টুল।এতে যেমন সব রকমের এডিটিং টুল আছে তেমনি আছে অ্যাডভান্স কালার কারেক্টিঙ্গ টুলস। কয়েকটি অভাবনীয় ফিচারও পাওয়া যায় যেমন- RGB কার্ভ , ব্রাইটনেস, কনট্রাস্ট, কালার ট্রান্সফার, অটো টোন ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে ম্যাজিক ফিল্টার ,আর্ট এফেক্ট, ওয়াটারমার্ক ,স্টিকার, ফ্রেমস, ব্রডার প্রভৃতি ।
স্বপক্ষে:-
ক) অনেক ফিচার যা আপনি আগে হয়তো ব্যবহার করেননি।
খ) এতে অনেক গুলি কালার কারেকসান ফিচার রয়েছে।
গ) দারুন ইউজার ইন্টারফেস।
বিপক্ষে:-
ক) ফ্রী ভার্সনে অনেক বিজ্ঞাপন আছে।
খ) অনেক গুলি লার্নিং কার্ভ রয়েছে।

৪) PicsArt Photo Studio :

এটি খুবই জনপ্রিয় একটি অ্যাপ যা প্রায় ৫০০ মিলিয়নের বেশি বার ডাউনলোড করা হয়েছে। এতে ছবি ছাড়াও অনেক রকমের স্টিকার পাওয়া যায়।এর বিশেষ টুলগুলি হল ক্রিয়েট কাটআউট, ক্রপ, স্ট্রেত্চস, ক্লোন, এড টেক্সট প্রভৃতি।
স্বপক্ষে:-
ক) দারুন কলেজ মেকার অ্যান্ড্রয়েডের জন্য।
খ) মজাদার ফিচার এবং এফেক্ট আছে।
গ) ফ্রী টেম্পলটেস এবং স্টক ছবি পাওয়া যায়।
ঘ) সেয়ার্ড এডিটিং করা যায়।
বিপক্ষে:-
ক) ইউসার ইন্টারফেস ব্যবহার করতে প্রচুর সময় নেয়
গ) ফ্রী ভার্সনে প্রচুর লম্বা বিজ্ঞাপন থাকে।

৫) Multi Layer- Photo Editor :

অসংখ্য লেয়ার নিয়ে যখন ছবি এডিট করার প্রয়োজন হয় তখন এই অ্যাপটি খুবই সক্রিয় ফটো এডিটর। Snapseed এর মত এতেও অসংখ্য ফিচার রয়েছে কিন্তু এটি নতুনদের জন্য ব্যবহার করা খুবই সহজ হবে ।এটার বিশেষত্ত হল,এটিতে সবসময় একটি ফাকা ক্যানভাস দেয় যা অন্য কোনও অ্যাপে পাওয়া যায় না।অন্যান্য ফিচারগুলি হল ফিল্টার, পেন্ট ,স্টিকার,ব্যাকগ্রাউণ্ড, ইরেসার, টেক্সট প্রভৃতি।
স্বপক্ষে:-
ক) উচ্চমানের ফটো এডিটিং ফিচার আছে।
খ) খালি ক্যানভাস সাপোর্ট করে।
গ) খুব সহজেই অসংখ্য লেয়ার এড করা যায়।
বিপক্ষে:-
ক) ফ্রী ভার্সনে অনেক বিজ্ঞাপন আসে।
খ) সমস্যা মূলক কিছু ফিচার রয়েছে মাল্টি লেয়ার এডিটিংএ।

পড়ুন : ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর জন্য 5 টি সহজ উপায় জেনে নিন