পাবজি, টিকটকের মতো ডিজিটাল অ্যাডিকশন থেকে মুক্তি কিভাবে? কি বলছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা

0
232

সাইক্রিয়াটিস্টদের মতে ডিজিটাল অ্যাডিকশন যেকোন ড্রাগের নেশার মতোই বিপদের ডেকে আনতে পারে। তাই যেসব কিশোর বা প্রাপ্তবয়স্করা গ্যাজেট ব্যবহার করা থেকে নিজেদের বিরত রাখতে পারেন না, তাদের এই সমস্যার মোকাবিলা করা খুবই জরুরি।

সম্প্রতি তামিলনাড়ুতে 24 বছর বয়সী এক মাকে টিকটক ব্যবহার করতে না দেওয়ার ফলে আত্মহত্যা করে এবং 16 বছর বয়সী এক পড়ুয়া 6 ঘন্টা টানা পাবজি খেলার ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, যার ফলে এই ধরনের অ্যাডিকশন নিয়ে সচেতন হওয়া খুবই জরুরি, তার জন্য প্রথম পদক্ষেপ সমস্যাটিকে ঠিক মতো বোঝা।

ফরটিস হেলথকেয়ারের মেন্টাল হেলথ এন্ড বিয়েভিয়ারল সাইন্স ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর, সমীর পরিখ জানান, দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেকোন মানুষের করা উচিত তা হল ওয়ার্ক লাইফ, ইনডোর লাইফ, আউটডোর লাইফ, রিক্রিয়েশন ও সোশ্যাল এনগেজমেন্টের মধ্যে একটা সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমানো। তার সাথে তিনি বলেন প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রতিদিন চার ঘন্টার জন্য ” ডিজিটাল ডেটক্স” করা উচিত। এই সময়ের মধ্যে তারা কোনরকম ফোন বা গ্যাজেট ব্যবহার করবে না।

এই প্রক্রিয়ায় যারা কোন ভাবে নিজেদের সংযত করতে পারবে না, তাদের অবশ্যই এই নিয়ে চিকিৎসা করানো উচিত। ইন্দ্রপ্রস্থ এপোলো হসপিটালের,সাইকিয়াট্রির সিনিয়র কনসালটেন্ট সন্দীপ ভহরা জানান, ডিজিটাল অ্যাডিকশনের ফলে “withdrawal symptom” দেখা যেতে পারে, যার থেকে গ্যাজেট নিয়ে সব সময় চিন্তা, কম ঘুমের সময় কোন গ্যাজেট নিজে থেকে ব্যবহার করা বন্ধ করতে গেলে বিরক্তিবোধ দেখা যেতে পারে।

এছাড়াও তিনি বলেন, ক্লিনিকাল ডিপ্রেশন, এনক্সাইটি, অবসিসিভ সিম্পটম, ইনসমনিয়া এবং অন্য কোন কাজে মন না দিতে পারার মতো সমস্যাও হতে পারে। কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে ওভার ডিপেন্ডেন্ট এবং সাইকোসিসের মতো ঘটনাও হতে পারে।

শুধুমাত্র বড়রা না বাচ্ছারাও এখন ডিজিটাল অ্যাডিকশনের শিকার, যদি বাবা মা অনেকটা সময় গ্যাজেট ব্যবহার করার মাধ্যমে কাটায় তবে সেক্ষত্রে তাদের দেখে শিশুরা শেখে এবং সেইমত আচরণ করতে থাকে। এক্ষত্রে তাদের বারন করলে যদি খারাপ আচরণ করে তবে সেই বিষয়টি নিয়ে সচেতন হওয়া দরকার।

এর প্রতিকার স্বরূপ বাচ্চাদের ইনডোর এক্টিভিটির থেকে আউটডোর এক্টিভিটি অর্থাৎ বাইরে খেলাধুলা করা, অন্যদের সাথে গল্প করা, ইত্যাদি বিষয়ে আগ্রহী করে তোলা দরকার। যদি কোন বাচ্চা ডিজিটাল অ্যাডিকশনের শিকার হয় এবং গ্যাজেট ব্যবহার করার জন্য বারবার মিথ্যা কথা বলে, তাহলে বাবা মায়ের উচিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এর সাথে পরামর্শ নেওয়া।

টেকনোলজিকে দিনের শেষে আনন্দের জন্য ব্যবহার করা জরুরি, কিন্তু অতিরিক্ত আনন্দের জন্য আপনার জীবন যাতে দুর্বিষহ না হয়ে তা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

পড়ুন : সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা ড্রাগ আসক্ত মানুষদের মতো ভুল সিদ্ধান্ত নেন : রিপোর্ট

সব খবর পড়তে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন – এখানে ক্লিক করুন

টেক ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন – এখানে ক্লিক করুন

সব খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত হোন – এখানে ক্লিক করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here