আপনার ফোন দিয়ে পোট্রেট, ল্যান্ডস্কেপ ও অ্যাকশন ফটো কিভাবে তুলবেন

0
297

স্মার্টফোন কেনার সময় অন্য সব ফিচারের সাথে ফোনের ক্যামেরা নিয়ে আমরা বিস্তর গবেষণা করে থাকি। বর্তমানে স্মার্টফোনের ক্যামেরা অনেক উন্নত হয়েছে, যার ফলে অনেক সুন্দর ছবি তোলা যায়। কিন্তু বেশ কিছু উন্নত মানের ক্যামেরা স্মার্টফোনও মাঝে মাঝে ভালো ছবি তুলতে সক্ষম হয়না কিছু সেটিংসএর সমস্যার জন্য। তাই জেনে নিন স্মার্টফোন ক্যামেরার বেশ কিছু সেটিংস যা আপনার মোবাইল ফটোগ্রাফিকে আরো আকর্ষণীয় করবে।

পোট্রেট ফটো:

দৈনন্দিন জীবনে আমার নিজেদের বা চেনা পরিজনের অনেক ছবি তুলে থাকি। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই আমাদের মনে হয় ছবি গুলোতে কিছু জিনিসের অভাব, বা ছবিগুলো আরো ভালো উঠতে পারত। তাই পোট্রেট ফটো তোলার সময় বেশ কয়েকটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে:

লাইটসোর্স: পোট্রেট ফটো তোলার সময় লাইট সোর্স খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই যার ছবি তুলছেন, তার মুখ লাইট সোর্সের মুখোমুখি রাখার চেষ্টা করবেন। এছাড়া লাইট সোর্সকে ব্যক্তিটির পাশে রাখলে ছবিতে বিশেষ ধরনের আর্টিসটিক এফেক্ট আসবে।

ছবির ফ্রেমিং: পোট্রেট ফটো তোলার সময় সাবজেক্ট বা ব্যক্তির মাথার উপর ও মুখের পাশে কিছু জায়গা নিয়ে ছবি তোলা উচিত। তাহলে ছবিটি ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে মানানসই হবে এবং ছবিটি আরো প্রাণবন্ত হবে।

ট্যাপ টু ফোকাস: ফোনের অটোফোকাস ফিচার
অনেকসময় সাবজেক্টকে ফোকাসে রাখে না সেক্ষত্রে সাবজেক্টের মুখে ট্যাপ করে ফোকাস করলে অনেক স্বচ্ছ ও নিখুত ছবি আসবে।

ফ্ল্যাশ এর ব্যবহার: ফোনের ফ্ল্যাশ ব্যবহার করলে অনেক সময় সাবজেক্টকে কৃত্রিম লাগতে পারে, তাই সেক্ষত্রে ফ্ল্যাশ না ব্যবহার করাই উচিত।

অ্যাকশন ফটো:

আমরা অনেক সময়ই চলমান কোন সাবজেক্টের ছবি তুলতে গিয়ে দেখি ছবিটি ব্লার হয়ে গেছে বা আউট অফ ফোকাস হয়ে গেছে। তাই অ্যাকশন ফটো তোলার ক্ষেত্রে কয়েকটি পদ্ধতি অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে।

পেসেন্স: পেসেন্স বা ধৈর্য না থাকলে অ্যাকশন ছবি কখনই ভালো আসবে না। তাই ছবি তোলার আগে চলমান সাবজেক্টের গতিবিধি এবং সাবজেক্টের সাথে পারিপার্শ্বিক জায়গার ব্যালান্স ভালো করে নিরীক্ষণ করতে হবে।

ব্রাস্ট মোড: অ্যাকশন ফটো তোলার জন্য ব্রাস্ট মোড ব্যবহার করা উচিত এবং একসাথে ক্যাপচার হওয়া অনেক গুলি ছবির মধ্যে মনের মতো ছবিটি নির্বাচন করা যায়।

প্রো মোডের ব্যবহার: অ্যাকশন ছবি তোলার জন্য ইউজারদের স্মার্টফোনের প্রো মোড ব্যবহার করা উচিত। ফোনে প্রো মোড না থাকলে প্লে স্টোর থেকে এরকম কোন একটি অ্যাপ ডাউনলোড করে নিলেও হবে। প্রো মোডে ক্যামেরার শাটার স্পিড পরিবর্তন করা যায় ফলে শাটার স্পিড যত দ্রুত হবে চলমান সাবজেক্ট এর ছবি তত নিখুত ও ব্লার ছাড়াই ক্যাপচার হবে। 1/500 ,1/800 শাটার স্পিড রাখলে গতিশীল কুকুরের ছবি সহজেই তোলা যাবে।

ল্যান্ডস্কেপ ছবি কিভাবে তুলবেন?

লাইটের ব্যবহার: ফটোগ্রাফি হচ্ছে আলো নিয়ে খেলা, তাই যে যত দারুন ভাবে আলোর ব্যবহার করবে, তার ল্যান্ডস্কেপ ছবি তত সুন্দর হবে। মূলত গোল্ডেন আওয়ার অর্থাৎ সূর্যোদয়ের ঠিক আগে ও সূর্যাস্তের ঠিক পরের সময় ল্যান্ডস্কেপ ছবি তোলার জন্য আদর্শ।

স্ট্রেইট হরাইজন: যদি ছবিতে হরাইজন বা দিগন্তরেখা সরলরেখায় না থাকে তাহলে ছবিটি ভালো হবে না। এক্ষত্রে ফোনের গ্রিড লাইন অপশনটি ব্যবহার করা যেতে পারে ফ্রেম ঠিক রাখার জন্য।

এক্সপোজার এডজাস্ট: অটো মোডে ক্লিক করলেও ছবির এক্সপোজার কমানো বাড়ানো যায়। তাই দিনের যে সময় ছবি তোলা হচ্ছে সেই অনুযায়ী ব্রাউটনেস বা ঔজ্জ্বল্য ঠিক মতো সেট করলে ছবিটি আরো সুন্দর হয়।

পারিপার্শ্বিক অবস্থান পর্যবেক্ষণ: ল্যান্ডস্কেপ ছবির ক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছবির পারিপার্শ্বিক অবস্থান। ভালো করে সেটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা উচিত সেই জায়গাটিকে কিভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

পড়ুন : ফটো এডিট করতে চান ?অ্যান্ড্রয়েডের জন্য ফটোশপের সেরা পাঁচটি বিকল্প অ্যাপের নাম জেনে নিন

প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা Whatsapp গ্রুপে যুক্ত হোন আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here