ভারতে দ্রুত বাড়ছে সাইবার ক্রাইমের ঘটনা। যুগ যত ডিজিটাল হচ্ছে তত নতুন নতুন হ্যাকিংয়ের খবর সামনে আসছে। সম্প্রতি নয়ডা-র এক মহিলাও অনলাইন হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন । জালিয়াতিরা তার অ্যাকাউন্ট থেকে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে এক লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। মহিলা এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক পুরো বিষয়টি আসলে কি ঘটেছিলো এবং কিভাবে এই ধরণের ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
গুগল সার্চ থেকে পেয়েছিলেন ভুয়ো নম্বর :
অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং পিন ছাড়াই ব্যাঙ্ক থেকে টাকা ট্রান্সফার হওয়া অনলাইন লেনদেন এবং ইউপিআই ভিত্তিক পেমেন্টের সুরক্ষা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠে এলো । নয়ডা-র ওই মহিলা অভিযোগ করেছেন, তিনি গুরুদ্বারে বুকিং এর জন্য গুগল থেকে ফোন নম্বর নিয়ে এক ব্যক্তিকে ফোন করেছিলেন। এরপর ওই ব্যক্তি জানান গুরুদ্বারের সমস্ত বুকিং অনলাইন করে দেওয়া হয়েছে। এরজন্য তাকে Google Pay এর মাধ্যমে পেমেন্ট করতে হবে। প্রতারক ব্যক্তিটি ওই মহিলাকে বলেছিল যে সে লিঙ্কের মাধ্যমে গুরুদ্বার বুকিং দেওয়ার জন্য তাকে একটি ফর্ম পাঠাচ্ছে । ফর্মটি পূরণ করার পরে লিঙ্কটিতে ক্লিক করে মহিলাকে টোকেনের পরিমাণ হিসাবে ৫ টাকা দিতেও বলেছিল।
Google Pay এর দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন :
এরপর ওই মহিলা প্রতারকের কথা মতো ৫ টাকা পাঠিয়ে দেয় এবং তাকে অবগত করে। এরপর প্রতারক তাকে জানায় যতক্ষণ না বুকিং সমাপ্ত হচ্ছে ততক্ষন ফোন হোল্ড করতে। কিছুক্ষন এভাবে ফোন হোল্ড রাখার পর ওই মহিলা ফোনে একটি মেসেজ পায়। তাড়াহুড়োয় ফোন কেটে মহিলা যখন মেসেজ চেক করে তখন দেখে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ টাকা ডেবিট হয়েছে। মহিলা জানিয়েছে পুরো ঘটনা ঘটেছে Google Pay এর মাধ্যমে।
ফোন ক্লোন করা হয়েছিল :
মহিলা এরপর আতঙ্কিত হয়ে ব্যাংক এবং পুলিশ ও সাইবার সেলকে পুরো ঘটনাটি জানায় । সাইবার সেল এরপর তদন্তে নেমে জানতে পারে প্রতারক ওই মহিলার কলটি ধরে রেখে ফোন ক্লোন করেছিল। ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে, প্রতারক ফোনের সম্পূর্ণ অ্যাক্সেস পেয়ে গিয়েছিলো ।
কিভাবে বাঁচবেন :
গুগলে পাওয়া নম্বরের উপর ভরসা করবেন না :
গুগলে জালিয়াতরা বিভিন্ন প্রচলিত কোম্পানির ভুয়ো কাস্টমার কেয়ার নম্বর আপলোড করে রাখে। তারা ওই কোম্পানির নকল ওয়েবসাইটের ব্যবহারও করে থাকে। গুগলের ভাষায় একে ফেক বিজনেস লিস্টিং বলা হয়। সাধারণ ব্যবহারকারীরা এই নাম্বারগুলিকে আসল ভেবে ভুল করে এবং জালিয়াতদের ফাঁদে পা দিয়ে দেয়। এই কারণে আপনি গুগলে যদি কোনো নম্বর পান তাহলে আগে কথা বলুন তবে কোনো মেসেজ পাঠানো, লিংকে ক্লিক করা বা পেমেন্ট করা থেকে বিরত থাকবেন।
স্মার্টফোনে শুধু অফিশিয়াল অ্যাপের ব্যবহার করুন-
জালিয়াতরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে নকল অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যাংকের সমস্ত ডিটেইলস চুরি করে নেয়। উদাহরণস্বরূপ এমন কিছু ক্যালকুলেটর অথবা টর্চের অ্যাপ আছে যারা আপনার কন্টাক্ট ডিটেইলস এবং আপনার ফোনের সমস্ত ফাইল ডিটেইলসের পারমিশন চায়। প্লে স্টোর থেকে যেকোনো অ্যাপ হঠাৎ করে ইন্সটল করে দেওয়ার আগে অবশ্যই দেখে নেবেন যে সেই অ্যাপটি কি কি পারমিশন চাইছে। যদি মনে হয় যে পারমিশন বেশি চাইছে তাহলে অ্যাপটিকে আনইন্সটল করে দিন। শুধুমাত্র অফিশিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করুন। এবং যদি প্রয়োজন হয় তাহলে সেই অ্যাপে থাকা অফিশিয়াল কাস্টমার কেয়ার নম্বরেই ফোন করুন। গুগল থেকে দেখে অন্য কোন নম্বরে প্রথমেই ফোন করে দেবেন না।
জালিয়াতি করা হয়েছে মনে হলে তৎক্ষণাৎ ব্যাংকের অফিশিয়াল কাস্টমার কেয়ার নম্বরে ফোন করুন-
যদি আপনার কোন ক্ষেত্রে মনে হয় যে আপনার সঙ্গে কোন জালিয়াতি করা হয়েছে তাহলে তৎক্ষণাৎ আপনার ব্যাংকের অফিসিয়াল কাস্টমার কেয়ার নম্বরে ফোন এবং তাদের নিজের সমস্যার কথা বিস্তারিতভাবে বলুন। ইন্টারনেটে কাস্টমার কেয়ার নম্বর বলে অনেক ভুয়ো নম্বর দেওয়া থাকে তাই একমাত্র আপনার ব্যাংকের অফিসিয়াল নম্বরেই ফোন করবেন। এবং অবশ্যই কোন ফেক অফারের জালে জড়িয়ে পড়বেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here