আগে দেশ তারপর বিনোদন, আর সেই কারণেই এবার সোশ্যাল মিডিয়া সহ স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ হলো ভারতীয় নৌ সেনা কর্মীদের জন্য। সম্প্রতি গোপন তথ্য ফাঁস করার অপরাধে ৭ জন নৌবাহিনীর কর্মী কে গোয়েন্দারা গ্রেফতার করার পর এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে নৌবাহিনী। এবার থেকে কর্মীরা নেভির ঘাঁটি, পোতাশ্রয় এবং জাহাজে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবে না।
আসলে ভারতের শত্রু দেশগুলো এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সক্রিয় এবং তারা বেছে বেছে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে টার্গেট করছে। এই কাজে তারা কাজে লাগাচ্ছে সুন্দরী মহিলাদের ( হানি ট্রাপ )। ফলে অনেক সময় ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর কেউ কেউ বন্ধুত্ত্ব পাতিয়ে ফেলছে ওই মহিলাদের সাথে এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও নৌবাহিনীর যাবতীয় তথ্য ফাঁস করে ফেলছে। এই সম্পর্কে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আগেই সতর্ক করেছিল গোয়েন্দারা। যদিও প্রথমে এব্যাপারে গুরুত্ব না দিলেও সম্প্রতি ৭ জন কর্মী গ্রেফতার হওয়ার পর, অ্যাডভাইজারি জারি করে কর্তব্যরত কর্মীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে নৌবাহিনীর তরফে।
অন্ধ্র প্রদেশ থেকে গ্রেফতার ৭ নৌ কর্মী :
গত ২০ ডিসেম্বর ৭জন নৌবাহিনীর কর্মীকে গ্রেফতার করেছে অন্ধ্র প্রদেশ পুলিশ। তাদের সকলকের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জন্য গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং নৌ গোয়েন্দা বিভাগ তাদেরকে ধরতে যৌথভাবে ‘ডলফিন নোজ’ নামে একটি অভিযান চালিয়েছিল। এরপরেই এই গুপ্তচর র‌্যাকেট সামনে আসে। আপাতত বিজয়বাড়া-র এনআইএ আদালত ৩ জানুয়ারী পর্যন্ত ওই ৭ জনকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলায় আরও কিছু সন্দেহভাজনকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা করছে গোয়েন্দারা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় হয়েছিল সুন্দরী মহিলাদের সাথে :
মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, সমস্ত অভিযুক্ত ২০১৭ সালে নৌবাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। ২০১৮ এর সেপ্টেম্বরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের সাথে কয়েকজন মহিলার পরিচয় হয়। এরপর কথা বলতে বলতে তারা ঘনিষ্ট হয়ে পরে এবং অনেক গোপন তথ্য তাদের কে দিয়ে ফেলে। অভিযুক্তরা জানিয়েছে, তারা তথ্য না দিতে চাইলেও তাদেরকে নানা ভাবে ব্ল্যাকমেল করা হতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here